এজ তেজ আবী ্রভ্যাঞা

8৫2 ২৯9২4 হাহ ৪. 50 85 4১৯৫7748574 ০0579৬10৮0৬

7৩5 10015817156 051০069-700073

অন্গিতাভ চৌধুরা

দে'জপাবলিশিং॥ কলিকাতা৭০০*৭৩

“িাজ গিন্কাপ $ হেশে বৈশাখ ১৩৬৭ ২১ মে ১৯৬০

প্রচ্ছদীশজ্পশ £ পুর্ণেন্দু পলী

দাম £ পণ্াশ টাকা

প্রকাশক 2 শ্রীসুধাধশুশেখর দে, দে'জ পাবাঁলাশিং ১৩ বাঁন্কম চ্যাটাজশ স্ট্রীট, কাঁলকাতা-৭০০০৭৩ মনদ্রুক £ পাঁরমলকুমার বসু, বনশ্রী প্রেস ৮০/৬ গ্রে স্্ীট, কাঁজকাতা-৭০০০৪৪

রবিঅনুরাগী হেমন্তকুমার মুখোপাধ্যায়কে

সব গমলয়ে এক বই- একতে রবীন্দ্রনাথ মূল কথাও একই-- মানুষ রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রসাহত্যের মত 'বাঁচন্র রবীন্দ্ুজীবন শুধু ভূমা আর জীবনদেখতার অন্বেষক 1তাঁন নন, কখনও পরলোকের সঙ্গে আলাপচারী, কখনও কোন বিদোৌশনীর অনুরাগী, কখনও আল কিংবা আখ চাষে আগ্রহী কাঁব-দার্শীনকের বাইরে অন্য রবীন্দ্রনাথ এই এবন্র-নিবদ্ধ গ্রন্থে এই অন্য রবীন্দ্রনাথই বারবার এসেছেন যেহেতু 'বাঁভন্ন রচনা বাঁভল্ন সময়ে লেখা এবং যেহেতু একই 'বষয় নানা প্রসঙ্গে এসেছে, তাই দু” একাঁট রচনার কিছ? £কছু অংশে পূুনব্ক্ত আছে গপ্রসঙ্গের প্রয়োজনে তা বাদ দিই 'ন। তাছাড়া এই বইয়ে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমার তিনাট বই বাদ পড়েছে রবীন্দ্রনাথের পকেট বুক" এবং হে বন্ধু হে 1য় নামে ইীতপবে প্রকাশিত দুটি বই আম ইচ্ছে করেই সংযুক্ত করি'ন। 'রাঁবর আলোয়” নামে আমার আর একখান বই প্রকাশের অপেক্ষায় এই গ্রন্থে এটিও যুস্ত করা গেল না। ভাবষ্যতে আরও ছু লেখার ইচ্ছে আহে যাঁদ পাঠকদের আনুকূল্য পাওয়া যায়, ভাহলে পরব্তৰ মুদ্রণে সেগ2লও এবীত্রত করা যেতে পারে এই বহই'ট প্রকাশের ব্যাপারে সব চেয়ে বোৌশ আগ্রহ দেখিয়েছেন আমার সহকম+ সাহাত্যক প্রফণ্ল্র রায়। তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সঙ্গে আমার শ্রদ্ধাভাজন তিন রবীন্দ্রগবেষক-_প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় প্রবোধচন্দ্র সেন পীলনাবহারী সেনের কাছে আমার খ্াণের কথা উল্লেখ কার এই তিন শিক্ষাগুরুকে প্রণাম

অ. চো,

ববীন্দনাঘথের পরলোকচ্গ!

প্িতিজ্লেক শু মহতল্দোেকেন স্ালত্োকিহঘত শুব্বস্তলএজ দের স্মন্গ্শে

নিবেদন

প্‌জাসংখ্যা আনন্দবাজারে রবীন্দ্রনাথের পরলোকচ্চঁ প্রকাশের পর চেনা অচেনা অসংখ্য লোক আমাকে চিঠি লিখেছেন, ফোন করেছেন। অনেকে বললেন, “যাক, নিশ্চিম্তে মরতে পারব পরলোক জায়গাটি দেখছি মন্দ না।” কেউ কেউ ধরে নিলেন গল্যানচেট মাঁডগ্লামে আমি বিশ্বাসী আমাকে নিয়ে প্ল্যানচেটের আসর বসানোর প্রস্তাবও এল। দু'একজন গ্ল্যানচেটে রবীন্দ্রনাথকে এনে জেনে নিলেন, আমি যা লিখো, সাঁত্য কিনা প্ল্যানচেট যাঁরা করে থাকেন, যাঁরা পরলোকতব্বে ব"্বাসী, তাঁদের কেউ কেউ বললেন, “আমাদের ধারণার পরলোকের সঙ্গে এই পরলোকও বেশ মিলে গেছে ।,

মূল্যবান চিতি ডঃ আমিয়চন্দ্র চক্তবতাঁর। ড: চক্রবতর্* রবীন্দনাথের পরলোকচ্চর অন্যতম লাপকর। (অন্যজন, মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায়, বত'মানে পরলোকে ।) ডঃ চক্রবতাঁসে সময় (১৯২১) রবীন্দ্রনাথের একান্ত সাঁচব ছিলেন। তিনি নিজে অবশ্য পরলোকতব্বে বিশ্বাস নন নিউ ইয়কের নিউ পল্‌জ স্টেট ইউনিভারসিাটি কলেজে তিনি এখন অধ্যাপক সেখান থেকে তান আমাকে যে চিঠ লিখেছেন, তাতে তিনি পারার জানিয়েছেন, রবান্দ্রনাথের পরলোকচচা হল “মহাপৌরুষেয় ছেলেমানূষীঁ”। এতিহাসিক প্রয়োজনে ডঃ চক্তবতাঁর চিঠির বৃহদংশ তুলে দিলাম তিনি লিখেছেন _

“মানুষের মননজাত নিছক কল্পনাকে ছলনা না বলে মায়ারচনা বলাই ভালো-দ্ম.তীবস্মাঁতকে নিয়ে খেলা_-তার সঙ্গে ধুব সত্যের যোগ নেই। রবীন্দ্রনাথের পক্ষে এটা মহাপৌর:ষেয় ছেলেমানুষাঁ, অস্বতিকেই অন্যভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা, তিনি নিজেই যা গ্রহণ করেননি, তা যেন আতশয়োস্তি ম্বারা ভুল বুঝতে চেয়েছেন। উত্তোজত বিশেষ অবস্থায় পেন্সিল দ্রুত নড়া, এবং তারই যোগে দর্শক শ্রোতাদের মনকে অন্যজগতের সঙ্গে বে'ধে দেয়া সম্ভব, কারণ প্রথমেই ধরে নেয়া হয়েছে সবই ভৌতিক সত্য। সেই ভৌতিক প্রকরণের ্বারাই পরলোকের যাকে ইচ্ছা যখন তখন নাঁময়ে আনা যায়, যুস্তিতর্কের কথাই ওঠে না। শ্রেষ্ঠতম কবিও যে এই সম্মোহন না মেনেও মেনেছেন, যাঁরা চলে গেছেন, তাদেরও নিজের খেয়াল হ্‌দবন্ধন হতে ম্যান্ত দেননি, তা'ও মধ্যে মধ্যে পারলৌকিক আঁধবেশনে দেখোছলাম। কিন্তু জীবনমত্যুর চরম প্রসঙ্গে কৌতূহল বা কোন বিশেষ কৌশল প্ররিয্নাকে সত্যের সম্মান দেয়াই সত্যের অস্্মান। কথাটা সত্যসন্ধ জ্ঞানী সাধক কাকে বলার দরকার ছিল না, অথচ আমার মতো সামান্য লোকও তা বলেছি, তিনি সম্মত জানয়েছেন। তাঁর মনের-স্বঙ্গ দ্বিধাকে উপলক্ষ্য করে নেতিবাচক প্রম্ন জানিয়েছি--“এ তো বড়ো আচ্চর্য ঘটনা, ভাবতেই পার না!” উত্তরে বলেছেন, “ঠাকুর-পারিবারে

সবই সম্ভব--দেখলে তো 1” ( অথা বিশ্বাস করো না।) আবার উলটো জোর দিয়ে তর্ক করেছি,_“এ কিন্তু আসল নয় ।৮ সঙ্গে সঙ্গে উত্তর পেয়োছ, «কেমন কারে জানলে ?” ( বুঝোঁছ, আমি সবজ্ঞতার দাঁব করোছলাম ।)

“রবেন্দ্রনাথ জানতেন আমার এবং অন্যের সম্পূর্ণ অপ্রতাীতির কথা তাঁর চারন্রশান্তর পারিচয় 'দিয়োছিলেন আমাদের উপর কোনো প্রভুস্ব প্রয়োগের চেষ্টা না করে। আমরাও তাঁর কিছদনের খেলায় বাধা দিইনি, কেননা জানতাম তিনিও যথাথ বিশ্বাস করেনান। বিশ্বাস-আবি*বাসের আন্দোলনে তাঁর মনে নানা সক্ষমচিন্তা, চৈতন্যের অনুভব জেগে উঠেছে, তাতেই 'তাঁন তখনকার মতো তৃগ্ত ছিলেন। হয়তো বিরুধ্ধতা আরো দঢ়ভাবে ব্যস্ত করা উচিত ছিল, তাহলে এঁ ধরনের নোট লেখার প্রহসন থেকে মুন্ত হতাম, যাঁদও অন্প বয়সের আস্পধা দেখানো ভালো নয়। (এ রকম অবস্থা আমাদের আরো হয়েছে। তাঁর প্রদত্ত ওষুধ, পথ্য ইত্যাদি গ্রহণ করা নিয়ে গেলাস গেলাস 'নম-বাঁটা জল খেয়ে অসুখ করেছে। অন্য ক্ষেত্রে বিন্দু বিন্দু শাদা গুড়ো ওষুধ ( বায়োকোমক ) খেয়ে ফলও হয়নি, ক্ষাতিও হয়নি--নিতান্ত চ্নেহ হঠাং- ব*বাসের আঁতশয্যে এই মহাকারুণক মানুষ আমাদের জন্যে যা করতেন, তার মূলা অন্যভাবে পেয়োছ।)

“কবি যা শুনতে চান, তাই শুনেছিলেন, নিজের কথারই প্রীতধ্যনি তাঁকে মুণ্ধ করেছে। তাই "পরলোক" থেকেও তাঁর প্রিয় বক্ষলোকের সংবাদই এসেছে, 1নজের বইয়ের নামোল্লেখসুম্ধ “আত্মসূষ্টর” সম্বন্ধে কণামান্ত নূতন সংবাদ আসোন অজানাকে স্বীকার করার দ্বারাই জানার পরিচয়-তারই এই উক্ত, অথচ ভৌতিক ক্রিয়াকমের দ্বারা হঠাৎ সবকে জানা যায় এরকম ব্যবহার তান কেন করবেন। জানার* পারধি বিস্তৃত করার প্রথা অন্য, তাঁর অগণ্য রচনায় সেই উপলব্ধি আমরা পেয়েছি।

“সত্তার গভীরতম দর্শন এখানে আলোচ্য নয় রবান্দ্রনাথ পরলোকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা “িঃরোপুৃরি ডীঁড়য়ে দেননি”, অথচ তাকে “ধর্ম বিশবাসের সঙ্গে জড়ানন”-আপনার এই বর্ণনা লমণীচখীন। প্রবন্ধে সে কথা আপান ব্যন্ত করেছেন।...একটা কথা আকা বলি। রবীন্দ্রনাথের পরিবারই এই আকাশ পাঁথবীর পরিবারকেই জুড়ে আছে, যখন তথন পরমাত্মীয়দের তান ডেকে পাঠাচ্ছেন, এই উদ্যোগের মধ্যে কী জানি একটা একাম্ত 'নিম'মতা অনুভব কাঁর। “পারলোৌকিক' ইতিবৃন্ধে সম্বন্ধে কোনো চেতনা ধরা পড়েনি, আঁস্তত্ব সম্বন্ধে শ্রদ্ধার অভাব--বা তাঁর রচনায়, কথাবাতায় কখনো ছল না _লাঁপ সংগ্রহে গ্রাথত হল যাঁরা কাঁবর ইহলোকে ছিলেন ঘনিষ্ঠতম, তাঁরা সৃষ্টির আরম্ভ থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর এক একাঁট আত্মীয়রূপে, বিশেষ বয়সে গলার আওয়াজে আবদ্ধ রকম কথা ভাবতেও বাধা আছে। এর মধ্যে পারলোিকের ভৌতিক অসঙ্গতি এবং সম্বন্ধের জভাবই ব্যস্ত হয়েছে।

“আম খুবই আকৃষ্ট হয়োছলাম উমা দেবীর আত্মসমাচ্ছন্ন তৎপরতার” [তিনি ছিলেন অসামান্য মাহলা | 'িম্তু অবচৈতনোর বেগ এবং স্নায়বিক কোনো কোনো আশ্র্য শান্ত পরলোকের প্রামাণিক নয় মনস্তত্ব এবং মানাবক আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে সেই জানত এবং অজানত সংক্ষয শাল্তর মূল্য আমরা ক্রমেই আরো বুঝতে পারব ।-.'রবীন্দ্রনাথের চিঠি এবং কথাবাতাঁ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা সমৃহ্জবল, সেখানে তান দার্শানক এবং কাঁবর দৃষ্টিতেই প্রকাঁশত। আপাঁন তাঁর অহংকারমৃত্ত, নিয়ত সন্ধানী মর্মতম পারচয় "দিয়েছেন, আপনার প্রাঞ্জল, অনংশশীলিত ভাষার যে উৎকর্ষ সমন্বয় ঘটেছে, আমি তাকে শ্রদ্ধা জানাই |”

ডঃ চক্রবতণ* তাঁর নিজগ্ব বিশ্বাস অবি*বাসের কথা সংন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। বলাই বাহল্য, এটি তাঁর ব্যান্তগত আঁভমত। রবীন্দ্রনাথ কিন্তু তাঁর 'পারলৌিক সংযোগের, অনেক পরে নানা জনের কাছে নানা সময়ে অন্য রকম নিজম্ব মতামত ব্যন্ত করেছেন৷ বিশেষ করে শ্রীষাক্তা রানী মহলানাবশকে ওই সময়েই লেখা চিঠিতে 'মাঁডয়াম প্রারুয়া সম্গর্কে তাঁর মনোভাব স্পন্ট প্রকাণশত

এবারে ধণ স্বীকারের কথা রবীন্দ্রনাথের পরলোকচ্চা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে আমাকে সর্বাগ্রে উৎসাহিত করেন পার্থ বস্‌ রবীন্দ্রজীবন রবীন্দ্র- সাহত্য সম্পকে তাঁর জ্ঞান আমাকে বহুবার বাস্মত করেছে। নানা তথ্য দিয়ে তান সাহায্য করেছেন তাঁর কাছে আম খণী। আর খণী রমাপদ চৌধুরীর কাছে। তাঁর চেষ্টা আগ্রহেই পর্জা সংখ্যা (১৩৮০ ) আনন্দ- বাজারে এত আড়ম্বরে আমার লেখা প্রকাশিত হয়

এই প্রসঙ্ধে কৃতজ্ঞতা জানাই বিশ্বভারতার উপাচার্ধ শ্রদ্ধাম্পদ ডঃ প্রতুলচন্দু গুগ্চকে। তান শান্তানকেতন রবান্দ্রসদনে রাখা মুল্যবান গ্যাদি ব্যবহারের অনুমাত দিয়ে বাধিত করেছেন তাছাড়া রবা্দ্রসদনের কম শোভনলাল গঙ্গোপাধ্যায়, পশুপাঁতি শাসমল, চিত্তরঞ্জন দেব, গৌর সাহ, আজত পোন্দার এবং পর্ণানন্দ চট্রোপাধ্যায় দেবী চট্টোপাধ্যায় আমাকে নানাভাবে সাহাষ্য করেছেন।

আতারন্ত ছবি তুলে দিয়েছেন অলক মিত স্বেচ্ছা বইয়ের অঙ্গসঙ্জার ভার নিয়েছেন পর্েন্দ্‌ পত্রী আমি কৃতজ্ঞ। _অ. চৌ.

ভিন্নলোক থেকে নীরব 'নরবয়ব আত্মারা আসেন? আসেন একদা-অন্তরঙ্গ প্রয়জনের একাণ্র আহবানে তাঁদের চোখে দেখা যায় না, হাতে ছোঁয়া যায় না। তব? বোঝা যায় তান কে, কে এলেন। তাঁদের কথার বাহন এ-জগতেরই অন্য কেউ সেই বাহনের হাত দিয়ে বেরোয় ঘাঁদের মনের ভাব, সুখ-দুঃখ, হাসি-আহনাদ। একজন যান, আর একজন আসেন। যেন এক বরাট নাট্যশালা। প্রবেশ আর প্রস্থান! কেউ নাম বলেন, কেউ বলেন না। রহস্যের জট কখনও খোলে, কখনও বাড়ে তবে সব প্রন, স্ব জিজ্ঞাসা ছাড়িয়ে সবাই যেন একাঁটি কথাই বলতে চান-_'শেষ হয়ে যাইনি, আছ আছ আছি ।, সঙ্গে সঙ্গে আবার প্র*ন হয়- কে তুম, তুমি কে? সেই প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায় ঘরের চারদাব, বাইরের উঠোনে, গাছের পাতায় বহ? দূর থেকে প্রাতধ্যান হয় _কেঃকে,কে?

কে?

- পাঠিয়ে দলেন তোমার নতুন বৌঠান।

জ্যোতিদাদা! সোঁদন আপনার কথা শুনে আমার খুব উপকার হয়েছে। মনকে শান্ত করতে পেরোছ।

_ তুমি পারবে, আমি জানি 1"

প্র“নকতাঁ ছোট ভাই রবদন্দ্রনাথ। কিন্তু আলাপ ম.খোমৃখি নয়, মাকাশ থেকে আলাপ ।॥ হেমন্তের ম্লান সম্ধ্যায় শাম্তিনকেতনের উদয়ন বাঁড়র একটি ঘরে জ্যোতীরন্দ্রনাথ ঠাকুরের অশরীরী আত্মা ওই একই ভাবে উপাস্থত হয়োছলেন কনিষ্ঠ ভ্রাতার আহ্বানে এসোছলেন পরলোকগত আরও অনেকে- সকলেই রবীন্দ্রনাথের প্রিয়জন জোোন্ঠা কন্যা মাধুরখলতা, কনিষ্ঠ পত্র শমখন্দ্রনাথ, ছোট বৌ মৃণালিন৭, নতুন বৌঠান কাদম্বরী, আজত চক্রবতাঁঃ সতোমন্দ্রনাথ দত্ত, সুকুমার রায়, সতখশ রায়, মাঁণলাল গঙ্গোপাধ্যায়, সম্তোষ মজুমদার _ অসংখ্য বিদেহী আত্মা।

মৃত্যু সে তো মুছে যায়, তবু এ"রা এলেন কী করে? এলেন মিডয়ামকে অবলম্বন করে। মিডিয়াম রবান্দ্রনাথের বন্ধু, “কাব্যগ্রন্থাবলীর' সম্পাদক মোহতচদ্দ্র সেনের কন্যা উম্া-যার ডাকনাম বুলা। সূন্দরগ, কৃশকায়া, কাব শরনকক্ষের মেঝেতে গোল হয়ে বসেন তাঁরা দুজনে রবীন্দ্রনাথ আর উমা

ণ্‌

অথ বুলা বলার হাতে লেখার খাতা আর পেনাসল স্তব্ধ 'বস্ময়ে পাশে বসে থাকেন অন্তরঙ্গ কেউ কেউ অবনীন্দ্রনাথ, নন্দলাল বস, প্রশান্ত মহলানাবশ, আময় চকুবত+ মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায়, মীরা দেবী, আমতা ঠাকুর এবং আরও অনেকে আসর বসে কখনও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাঁড়ির তেতলায়, কখনও শান্তাঁনকেতনে উদয়নে এক একবার এক এক দল

অন্যরা দর্শক, প্রশ্ন করেন শুধু রবীন্দ্রনাথ প্রথমে আহবান, তারপর প্রাথথত আত্মা ভর করেন উমা দেবীর দেহে প্র“ন করার সঙ্গে সঙ্গে অসম্ভব 'ক্ষিপ্রবেগে উমা দেবীর হাত দিয়ে কাছে রাখা খাতায় লেখা হয়ে যায় উত্তর। কোথাও কোন জড়তা নেই, নেই বস্তবোর অসংলগ্নতা। তাছাড়া ইহজগতে যার যেমন মুখের ভাষা ছিল, সংলাপে ষেন ঠিক তারই প্রকাশ এবং একজন যান তো আর একজন আসেন

কে তুমি

_বেলা।

বেলা ? ভালো আছিস?

_হ্যাঁ, বেশ আছ।

পুথিবীর সব কথা মনে আছে ? এখানের সঙ্গে তোর যোগ আছে ? -আছে বই কি!

শমীর সঙ্গে দেখা হয়? তাকে পাস কাছে?

_ হ্যাঁ, এই তো কাছে ছিল ; এখনও আমার কাছে রয়েছে ।-**

জ্যেন্ঠা কন্যা বেলা গেলেন, এলেন অন্য কেউ প্রত্যেকের সঙ্গে চলে দীর্ঘ কথোপকথন লোক বুঝে সেই রকম প্র*্ন করেন রবীন্দ্রনাথ এবারে আজতকুমার চক্তবতাঁ |

এসেছ কেউ? নাম কী?

-অজিত।

তোমাদের ওখানে যে মানবায্ম সম্মিলন হয়, একটা কিছু 0/৬/1129- 11০0 তৈরা হচ্ছে? সকলের সমবেত চেম্টায় ?

লগে তো গন্ডীমাপা ছু নয়, সে যে একটা বৃহৎ ব্যাপার ।-**

এইভাবে চলেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সকাল এবং সম্ধে দু” দফ'য়। রবীন্দ্র- নাথের প্র“্নগুলো আলাদা একটি খাতায় কখনও িলথে রেখেছেন অমিয়চন্দ্ চক্লবতঁ, কখনও মোহনলাল গঙ্গোপাধ্যায় কিন্তু এমন দূভাগ্য আমাদের, পরম্পরা রক্ষা করে সব প্র্ন এবং সব উত্তর লিপিবদ্ধ হয়ান। ১৯২৯ সালের

নভেম্বর ভিসেম্বর মাসের মানত চার দিনের সংলাপ সম্পূর্ণ লিপিবদ্ধ রয়েছে। বাঁক সংলাপের কিছ নিরুদ্দেশ, কিছু অসংলগ্ন অবস্থায় আছে রবান্দ্নাথের চিঠিতে ॥। রবীন্দ্রনাথ গনজেই রানশ মহলানাবশকে লেখা এক চিঠিতে আপশোস রে বলেছেন--“আমার দুঃখ, এই কথাগুলো কেউ লিখে রাখোন ।”

রান মহলানাবশকে লেখা ওই চিঠির সূত্র ধরেই আম রবীন্দ্রনাথের পরলোকচচরি জগতে প্রবেশ কার আমার কৌতূহল আমাকে টেনে নিয়ে যায় শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রসদনে খুজতে খুস্জতে পেয়ে যাই আকাশ থেকে আত্মার আলাপের অনেক বলীপবদ্ধ কথোপকথন

সব নেই, 'িম্তু ধা পেলাম তার তুলনাও নেই আটখানা খাতা ভরাঁতি সেই অলৌকিক স্ংলাপ। একাঁটতে উত্তর, অন্যটিতে প্রণন। মিলিয়ে সাজানোর পর বোরয়ে পড়লেন নতুন এক রবধম্দ্রনাথ বহ দুঃখ, বহু শোক তাঁর ভিতরে জমা ছিল অশরীরী প্রিয়জনদের সঙ্গে কথাবাতয়ি কখনও বোরয়ে পড়েছে স্নেহশনল পিতার রূপ, কখনও বা ম্বশীবয়োগবিরহন স্বামশর ছবি। আবার দোখ কখনও তিনি প্রিয়শিষ্যাবিচ্ছেদে শোকাচ্ছন্ন কবি, কথনও বা পরলোকগত জো]ম্ঠ ল্বাতাদের কাছে রয়ে গেছেন সেই “ছোট ভাই রা”

ওই দু মাসেরই নানা দিনে 'বাভন্ন আত্মাকে এনেছেন রবীন্দ্রনাথ রবশন্দ্রসদনে রাখা লিপিবদ্ধ চার 'দনের সংলাপ ছাড়া কয়েকাট চিঠি অন্তরঙ্গজনের সঙ্গে আলোচনায় আত্মা আনার উল্লেখ আছে ১৯২৯ সালের পর রবীন্দ্রনাথ কোন আত্মাকে এনেছিলেন কিনা জানতে পারিনি। তবে অনেক আগে নানা সময়ে গ্ল্যানচেটের সাহায্যে নানা জনের আত্মাকে ষে রবীন্দ্রনাথ এনোছলেন, তার দু-একটি কাহন? রয়েছে

প্ল্যানচেটে পরলোকচচ অবশ্য জোড়াসাঁবো ঠাকুরবাঁড়র অন্যতম বৈশিন্ট্য। অ.নকেই পরলোকতত্ব নিয়ে মাথা ঘামাতেন, বিদেহন শ্রাত্াদের আনা হত। তার প্রথম উল্লেখ পাই জীবনস্মৃতিতে ঠাকুরবাড়ির জষ্ঠ ". খাজাণ্ণটী কৈলাস মুখু্জেকে খন স্লযানচেটে আনা হয়, রবীন্দ্রনাথ তখন বালকমান্ত। মুখুত্জে- নশাই ইহলোকে রাঁসক ব্যন্তি ছিলেন। পরলোকে গিয়েও সেই রাঁসিকতা [তান শবসপ্মৃত হনান। স্লযানচেটের সাহায্যে তাঁকে বখন ডাকা হয় এবং জজ্ঞাসা করা হয় পরলোক জায়গাটি কেমন, তান উত্তর দেন, মরে গিয়ে আত কন্টে যা তিনি জেনেছেন, প্র্নকতরা না মরে তা জেনে নেবেন সোঁট হবে না।

বাল্যকালে রবীন্দুনাথের আর একটি স্ল্যানচেট-কাহিননর প্রমাণ তাঁরই একখানা চিঠি। শ্রীপ্রথমনাথ বিশী রবঈন্দ্ুনাথের কাছে জানতৈ চান মাইকেল সম্বন্ধে কোন স্মৃতি তাঁর মনে আছে কিনা কেননা এক সময় জোড়াসাঁকোর বাড়তে মাইকেলের যাতায়াত 'ছিল। রবীন্দ্রনাথ উত্তরে লেখেন, “আমাদের বাড়তে মাইকেলের গাঁতাবধির পরে আমার জম্ম আমি তাঁকে দোখনি।

্উ

একবার প্রেতবাণ*বহ চনক্রযানে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়োছল, সেটা সাক্ষার্পে আদালতে গ্রাহ্য হবে না। হাতি ২১ শ্রবণ ১৩৪৪1”

মাইকেলের মৃত্যু ১৮৭৩ সালে। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১২। অনুমান কার প্ল্যানচেট অথ প্রেতবাণীবহ চক্রযানে-মাইকেলের আত্মাকে তান এনে- ছিলেন তাঁর মৃত্যুর অনাঁতিকাল পরেই, বালক বয়সে আরও অনুমান করা যায়, মাইকেলের মত অনাত্নীয় আরও অনেক গ্াণজনই তাঁর প্রেতবাণধবহ চক্রযানে ধরা দিয়েছিলেন

পরবত” আর একট উল্লেখ পেয়েছি মালতী পুশথতে বছর কয়েক আগে শাবধ্বভারত থেকে প্রকাশিত হয়েছে সেই পৃশশথাঁট। মূল খাতায় রবীন্দ্রনাথের আদ্যকালের বহু রচনার পান্ডুলিপির সঙ্গে থেকে গিয়েছে সেই গ্ল্যানচেট- পলখন। বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রস্দনে রাখা সেই মূল প:শথতেই দেখেছি অস্পম্ট হস্তাক্ষরে রয়েছে_

[ক উপায়ে সাবধান করবেন 2 _-কারবে। তার জন্যে কি কল্লে ভাল হয় উপদেশ 'দিন। _কাঁরবে। 1ত'নি ষে বিপদে পড়েছেন তাতে কি উদ্ধার পাবেন ? _শীগ্র না। ন”' বৌঠান কি ষাবেন ? -আম তো বাঁললাম। (সনাতন মহখেপাধ্যায় ) আমি বসলেই কালখকুমার নন্দী কেন আসেন ? --/৯ (0০01. তাঁকে তাড়ানো যাবে কী করে? - [1116 1181716 01 004. তাঁর নাম কচ্চি, কিন্তু যাচ্ছে না- 4৯ 0216511019, আর একবার লিখুন 1 [6210 1009 58৮, 11050 90167111019 , আজ বড় গোলযোগ হচ্ছে _ আপনাকে প্রণাম করে বিদায় হই *ণণহ্1 তুম কোথায় থাক স” (01076 076 0106

১০

কোথায় থাক £

-- 9186 0176 0109

তুমি কে! (জানকবাবু ন" দিদি ) _ 0০811 10010]

গুণদাদাকে এনেই তুমি ঘাবে কি?

১৮৮০-৮১ সালের এই প্লানচেট-লিখনের প্রধান উদ্যোন্তা যে রবীন্দুনাথ, তাতে সন্দেহ নেই। ন” বৌঠান, ন" দাদ, জালকীবাবু, গুণদাদা ইত্যাশদ সম্বোধন রবীন্দ্রনাথেরই ন? বৌঠান--বলেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাতা প্রফুলময়* দেবী, ন' দিদি--স্বর্ণকুমারী দেব, জানকবাবু-ভাপ্নপাতি জানকণীনাথ ঘোষাল এবং গুণদাদা _ অবনপন্দ্রনাথের পিতা গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুর কিন্তু কাল+- কুমার নন্দী সনাতন মুখোপাধ্যায় কে, ঠিক জানতে পারনি সম্ভবত বাইরের লোক, ঠাকুরবাঁড়তে যাতায়াত ছিল। তাছাড়া কার আত্মা সেপ্দন আনা হয়োছল, তাও ঠিক বোঝা গেল না। শ.ধু বোঝা গেল, সেদিনের আগেও অনেকবার প্ল্যানচেট-চচ হয়েছে নইলে 'আজ বড় গোলযোগ হচ্ছে কথাটা বলা হত না। অন্যাদন নয়ই গোলযোগ হয়ান।

আঁজতকুমার চক্রবতঁর কন্যা, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৌন্রবধ্‌ আমিতা ঠাকুরের কথায় আরও জানতে পার, মণাঁলন? দেবীর মত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ নাক স্তীকে অনেকবার এনোছলেন। এমন কি প্ল্যানচেটে মংণাঁলসন? দেবীর সমর্থন না পাওয়ায় পুত্র রথদ্দ্ুনাথের বিবাহের বহু সম্বন্ধ ভেঙে যায় এবং মৃণাঁলিনন দেবীর ইচ্ছানুসারেই অবনশন্দ্রনাথের বিধবা ভাগনেয়ণ প্রাতমা দেবর সঙ্গে রথীন্দ্রনাথের বিবাহ হয় | প্ল্যানচেট মিডিয়াম নিয়ে শ্রীষুস্তা আমতা ঠাকুরের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি আমাকে বলেন, তাঁকে €ই কথা বলেছেন ধহ্বজেন্দ্রনাথের পনভ্রবধ্‌, 1দ্বপেন্দ্রনাথের স্মী “বড়মা* হেঃ,তাদেবী। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ কার, ১৩৬২ সালের বৈশাখ-আষাঢ় মাসে প্রকাশিত 'বি*বভারতন পাল্রকায় দেশবদ্ধু-ভাঁগন উীর্মলা দেবীর একাঁট রচনার অংশ তাতে তিন 1লথছেন যে, তাঁর মেজাদিদি অমলা দাসকে রবাশ্দ্ুনাথ তাঁর স্ত্রী মৃণালন দেবী সম্পর্কে বলেন, “মানুষ মরে গেলেই ষে একেবারে হাঁরয়ে যায়, জীবিত প্রিয়- জনদের কাছ থেকে 'বাচ্ছন্ন হয়ে যায়, সেকথা আম বিশ্বাস কার না। 'তি'ন (মত) এত্দিন আমাকে ছেড়ে গেছেন, কিন্তু যখনই আম কোনো একটা সমস্যায় পাঁড়, যেটা একা মণমাংসা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তখনই আমি তাঁর সান্নধ্য অনুভব কার। শুধু তাই নয়, তান যেন এসে আমার সমস্যার সমাধান করে দেন। এবারেও আম কঠিন সমস্যায় পড়েছিলাম, কিন্তু এখন আর আমার মনে কোনো দ্বিধা নেই।

জ্যোতারন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্্ধ কাদম্বরী দেবীর মততযুর পর টন তাঁর

৯৯

প্রিয় নতুন বৌঠানকে যে স্্যানচেটে অনেকবার এনেছেন, তার উল্লেখও আছে অনেক জায়গায় কাদশ্বরী দেবী এবং মৃণালিনী দেবীকে পরে 'মিডিয়ামের মাধামেও রবীন্দ্রনাথ এনেছিলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয়, রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ এই দুই মহিলার সঙ্গে পারলোৌণকক কথোপকথনের 'লাপিবন্ধ রূপ সম্পূর্ণভাবে আমি রবান্দ্রসদনের সংগ্রহশালায় পাইনি

তবে মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ তার কিছুটা নকল করে রেখোঁছলেন রানী মহলানাবশকে চিঠিতে লিখেছেন, কোন একাঁট দিনের কথোপকথন “কোন এক অবসরের সময় কাঁপ করে তোমাকে পাঠাব ।* কাপ করে থাকলে হয় কারও কাছে আছে, নয় সরিয়ে রাখা হয়েছে কিংবা হয়ত করাই হয়ান।

রবান্দ্ুপদনের খাতায় নাম-না-বলা একটি আত্মার সংলাপ পেয়েছি পড়লেই বোঝা যায়, তিনি কে। কাদদ্বরী দেবী মৃণাশলনী দেবীর সঙ্গে কবির কথোপকথনের অনেক বিবরণ যে পারম্পর্য রক্ষা করে রাখা হয়নি বা রাখা হলেও পরে হারিয়ে গিয়েছে তার প্রমাণ রয়েছে রানী মহলানাঁবশকে লেখা রবীন্দ্রনাথের চিঠিতে স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গে বলছেন -_

“শেষের 'দককার প্রশ্নোত্বরগুলো মোহনলাল িখোছিল। ঠিক তাদের পরম্পরা রক্ষা করে লিখতে পারলুম অন্যগুলো 'হাজাবাঁজ কাটা কাগজের ভিতর থেকে উদ্ধার করেছি কিম্তু তাদের পরম্পরা রাখতে পাঁরাঁন। আরও অনেক কথা লেখা হয়োছল, খুণজে পাওয়া গেল না।*

তবে খুজে খু'জে অন্য অনেক জিনিস, ঘা আঁম সম্প্রতি পেয়োছ, তা-ও আকারে 'বিরাটঃ রবান্দ্রনাথের জীবনদর্শন আরও ভাল করে বোবার পক্ষে অপাঁরহার্য। উত্তরগুলোর বিচার যাই হোক, প্র“নগুলোতো রবীন্দ্রনাথেরই, এবং তাতে তাঁকে নতুন ঝরে জানা যায় সেই আটখানি খাতা আটটি সোনার খনি। বিমবভারতণর রবান্দ্ুসদন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, ভাগ্যিস তাঁরা ভৌতিক খাতাগুগল সযত্বে রেখেছেন

১৯৫৩ সালের জ্‌ন মাসে আম শাম্তি'নকেতন গিয়েছিলাম খাতার খোঁজে তখন গরমের ছহাট। রাস্তাঘাটে লোকজন কম গেস্ট হাউস একদম ফাঁকা বিরাট বাড়িতে একমান্র আতথি আম সকাল বিকাল দুইবেলা আত্মার সংলাপ নিয়ে আচ্ছন্ন থাকতাম রাত্রে যখন একা গেস্ট হাউসে শুতে যেতাম, সেই আচ্ছন্নভাবের ঘোর কাটাতো না। মনে হতো বিনা আহবানেই ওরা ঘরে এসে গেছেন জানালার গরাদে গালে হাত 'দিয়ে দাঁড়য়ে আছেন শমা, ভিতরে চেয়ারে এসে বসেছেন কাদশ্বরণ দেব, কিছ? যেন বলতে চান মাধুরীলতা। আমার সারা গায়ে শিরশিরানি দেখা দিত। বিছানা থেকে হাত বাঁড়য়ে সুইচ টিপে আলো জেবলে দিতাম বাঁক রাত কার্টতো অনিদ্রায়। কিম্তু সকালবেলা হতো সুখের একটা অনুভূত যাঁদের কখনও দেখান, অথচ জানি নিবিড়- ভাবে- রবীন্দ্রনাথের লেখায় চিতিপত্রে- তাঁদের সঙ্গ পেতাম প্রাতি রাত্রে, হঠাং

অলোঁকক হয়ে যাওয়া প্‌ব পল্লী গেস্ট হাউসে আমার ছোট্র ঘর'টিতে ইহুলোক আর পরলোক 'কিছ-দিনের জন্য আমার কাছে একাকার হয়ে গিয়েছিল

দুই

এই খাতাগুলোয় পাওয়া সংলাপের পূণ“ বিবরণ তুলে দেওয়ার আগে আলোচনা করা দরকার রব ন্দ্রনাথের পরলোকচচরি সামাগ্রক দিক প্ল্যানচেট বা মাডিয়াম প্রক্রিয়ায় পূণ" বি“বাস না রেখেই অনেকে পরলোকচর্চা করে থাকেন রবীদ্দ্র- নাথও কি তাই? বোধ হয়না। এই সম্পর্কে নানা চিঠিপত্র আলাপ- আলোচনার যতটুকু আম সংগ্রহ করতে পেরোছ, তাতে বোঝা যায়. রবখন্দুনাথ এই সব পারলৌফকিক আলাপ পুরোপ্নার ডীঁড়য়ে দেনান। বি*বাস-আবিশ্বাসের মাঝথানে থাকলেও কথাবাতায় টের পাওয়া যায় তাঁর ঝোকটা যেন 'বিশবাসের দিকেই : ভবে তিনি থিওসাঁফম্টদের মত পরলোকতত্বকে ধর্মীবশ্বাসের সঙ্গে জড়াননি।

আমোরকায় মারগা'র রেক্স নামে এক মাহলার সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি পাঁরকার বলেছেন, “মৃত্যুর পরবত” জীবন সম্পর্কে আমার আশা শ্বাসের শেষ নেই ।” এই আশা 'বি*বাসের প্রাতফলন তাঁর কাঁবতায় গানে প্রবন্ধে। জীবন আর মৃত্যুকে তানি 'বাচ্ছন্ন করে দেখেননি এবং দেখেননি বলেই শোকের পর শোক-জ্পী-পৃত্রকন্যার মৃত্যু _নাবকারচিত্তে গ্রহণ করেছেন। তাঁর দৃখ্টতে ইহলোক থেকে পরলোকঘাত্রা শিশুর মত স্তন থেকে স্তনাম্তরে যাওয়া, এক ঘর থেকে অন্য ঘরে প্রবেশ করা। দুই ঘরের মাঝখানে মৃত্যুর দ:য়ার, সুতরাং “কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয় 2”

জীবনে ফুল ফোটা হলে মরণে যে ফল ফলে, তার কথাও বার বার উচ্চারিত হয়েছে রবান্দ্রনাথের কণ্ঠে শাম্তি'নকেতন গ্রম্থেব এক জায়গায় তান বলেছেন _-“জশবন হইতে মংত্যুতে পদার্পণ, দিন হইতে রান্রিতে সংর্ূমণেরই অনুরূপ ইহা বাহির হইতে অম্তঃপুরে প্রবেশ, কর্মশালা হইতে মাতৃক্লোড়ে আত্মসমর্পণ |” সংশয় সন্তাপ শোকে ভরা এই ইহলোক মাঝে মাঝে তাঁর কাছে মনে হয়েছে প্রবাস তান তাই বলেছেন, “এ পরবাসে রবে কে হায় ।”» কেননা এই পৃথবী “দুদন দিয়ে ঘেরা” ঘর, মৃত্যুর পরেই মেলে “চিরাদনের আবাস” তারপর £ তারপর 'আবার যাঁদ ইচ্ছা করো আবার আঁ” ফিরে, দহঃখসৃখের ঢেউখেলানো এই সাগরের তীরে।;

এত নিঃসংশয়ে এত সব মহৎ বাক্য উচ্চারণ করা সত্বেও পরজীবন সম্পকে আরও জানতে রবীন্দ্রনাথের কৌতূহলের অন্ত 'ছল না, বার বার প্রশ্ন করেছেন,

১৩

“কী আছে শেষে 2 এই শ্যামল পৃংথবীকে এত ভ।লবেসেও, সংম্দর ভুবনে মরতে না চাওয়ার কথা বলেও রবীন্দ্রনাথ বার বার পরলোকের সঙ্গে সম্বম্ধ স্থাপনের চেষ্টা করেছেন নানাভাবে অতীন্দ্ুয় অনুভ্াীত দিয়ে শুধু ধরা নয়, প্ল্যানচেট 'মাঁডয়ামের সাহায্যে পরলোকগত 'প্রয়জনের সঙ্গে তিনি আলাপ-আলোচনাও

করেছেন | যাস্তবাদী রবীন্দ্রনাথ কি তাহলে গ্ল্যানচেট বা মিডিয়াম বিশ্বাস করতেন ?

বষয়ে তাঁর মতামত স্পন্ট ১৯৩৯ সালে তিনি কথাপ্রসঙ্গে মৈত্রেয় দেবীকে বলেছেন _-“পাথবীতে কত কিছ তুমি জানো না, তাই বলে সে সব নেই £ কতট্‌কু জানো জানাটা একটূকু, না-জানাটাই অসীম সেই এতট.কুর উপর নিভ“র করে চোখ বন্ধ করে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া চলে না। আর তাছাড়া এত লোক দল বেধে ক্রমাগত মিছে কথা বলবে, আম মনে করতে পাণরনে তবে অনেক গোলমাল হয় বই কি কিন্তু যে বিষয়ে প্রমাণও করা যায় না, অপ্রমাণও করা ষায় না, সে সম্বন্ধে মন খোলা রাখাই উচিত যেকোন একাঁদকে ঝুকে পড়াটাই গোঁড়ামি ।৮ ( মংপুতে রবীন্দ্রনাথ )

এই “খোলা মন? নিয়েই কাঁব প্ল্যানচেট মিঁডিয়ামের সাহায্যে তাঁর প্রয়- জনের সঙ্গে কথাবাতাঁ চালিয়েছেন মাঝে মাঝে বিস্মত হয়েছেন উড়রগুলো দেখে অনেক সময় পরলোকগত ব্যান্তর আত্মার উত্তরে বি*বাসও করেছেন

এই প্রসঙ্গে মংপুতে রবীন্দ্রনাথ, থেকে মৈন্রেয়শ দেবার সঙ্গে তাঁর আলাপের আর একটি অংশ তুলে ধরাছ।

“যা সিস্টেমেটিক্যালি প্র-ভ্‌ড্‌ হবে না, তাতেই আঁঝি*বাস ! কণ্টা বিষয় প্রমাণ হয়েছে সংসারে? তাছাড়া এমন 'ফিছ থাকা সম্ভব, যা প্রমাণ হয়নি, হতে পারে না। কারণ তা সব মান,ষের কাজের গম্য হয় সে গোপনে থাকবার জন্যই 11981. দৈবাৎ কোন কোন মুহৃতে" কোন কোন -বিশেষ ব্যন্তির মনে তার এতটুকু প্রকাশ পায়, 'কন্তু প্রমাণ করবার মত কোন 'স্থ্‌ল চিহ্ন রেখে যায় না। এই তো, (বুলা) কী রকম করে সব 'িখত বল তো? আশ্র্ধ নয় তার ব্যাপারটা 2.*ও কেন 'মছে কথা বলবে 2? কাঁ লাভ ওর ছলনা করে 2"এমন সব কথা বলেছে যা ওর 'বদ্যাবদ্ধতে কখনও সম্ভব নয় যাঁদ স্বীকার করবে, একটুও সময় না নিয়ে আম প্র*ন করা শান্তর তার ভাল ভাল উত্তর, উপযযস্ত উত্তর, ফসফস করে লিখে যেতে পারে তাহলেও ওকে অসামান্য বলে মানতে হয় আমি কী প্রথ্ন করব, তা তো আর আগে থেকে জানত না যে প্রস্তুত হয়ে আসবে? এই ধর না, নতুন বৌঠান আমার সঙ্গে কী রকম ভাবে কথা বলতে পারেন, তা ওর পক্ষে বোঝা শস্ত। তিনি বললেন- “বোকা ছেলে, এখনও তোমার কিছু বুদ্ধি হয়নি ! একথা এমনি করে তিনিই আমায় বলতে পারতেন ওর পক্ষে আন্দাজ করে বলা কি সম্ভব ? তা ছাড়া আরও অনেক কথা লিখোছল, যা জানতে পারে না বা তেমন করে প্রকাশ করতে পারে না। একবার একটা

৯৪

খাঁটি কথা লিখলে--“তোমরা আমাদের কাছে এত রকম প্রশ্ন কর কেন? মৃত্যু হয়েছে বলেই ত্যে আমরা সবজান্তা হয়ে উঠিনি।' কত অচ্ভুত অদ্ভুত কথা সে িখোছল, অনেক বোঝাও গেল না। শমী বলছে-_-আমি বক্ষলোকে আছ, সেখানে এক নূতন জগৎ সৃষ্ট করছি। কেজানে কী তার মানে। যে রকম দ্রুত গাঁততে লিখে যেত, আশ্চষ লাগত একটা বথা শহনে তার অর্থ বুঝে উত্তর লিখে যাওয়া এক মৃহত" বিরাম না করে,আঁম তো মনে করিনাষে সহজে সম্ভব তাছাড়া এত মথ্যা বলেই বা লাভ ক." খুব শন্ত সবল জোরালো মানুষ বোধ হয় ভাল 'মাডয়াম হয় না। কিন্তু তারও বোধ হয় কারণ থাকতে পারে। কোন এক শ্রেণীর মনের পক্ষে হয়ত এর গ্রহণ সহজ হয় আমি স্বপ্ন দোখনে মোটে এত কমস্ব্ন দেখি। মাত্র একবার নতুন বৌঠানকে স্বস্ন দেখেছিল:ম, ষেন তিনি নীরবে এসে দাঁড়ালেন ঘরের মাঝখানে, আমি বললুম, *তাঁম কেন এলে, এখানে তো তোমাকে আর কেউ চায় না।”

মাডিয়াম বা *্ল্যানচেটে বিদেহী আত্মা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের মতামত পারুকার আর কোন বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে না। আসলে রবসন্দ্রনাথের অপারস্গীম কৌতহলই তাঁকে নিয়ে গিয়েছে পরলোকচচাঁয়। ব্যাপারটাকে সম্পূর্ণ অলক বা আজগর বলে তান উড়িয়ে দেনান। এই বিষয়ে ১৯২৯ সালের নবেম্বর জোড়াসাঁকো থেকে রানী মহলানাবশকে লেখা তাঁর চিঠিটি [বিশেষ উল্লেখযোগ্য প্রসঙ্গত বলা দরকার এই চিঠি লেখার তিন দিন আগে, নবেম্বর, জোড়াসাঁকো বাড়ির তেতলায় তান অনেক আত্মা আনেন। তাঁর চিঠির প্রয়োজনীয় অংশ হল £

“-..বুলা তার পরে আর একাদন এসে পৌন্সল ধরোছল এঁদনও ভাববার মতো অনেক লেখা বোরয়েছে। একটা ঝড় আশ্চষ কথা পাওয়া গেছে শমদ এসোঁছল। অন্য অনেক বথার মধ্যে সে বললে- শাম্তিনকেতনের ধ্ুবকে আমার মনে পড়ে সে অনেক দিনের কথা ধ্রুব এ. আর দুটি ছেলে শান্তানকেতনে আমারই বাড়তে শমীর সঙ্গে একত্রে ছিল। বেলা তাদের দেখাশোনার ভার 'নিয়োছল--তাদের পড়াশোনাতেও সাহাষ্য করত। ওর নাম যখন উঠল আমি কিছুতেই মনে আনতে পারলাম না। অপূর্ব (অপূর্ককুমার চন্দ ) বললে, হাঁ, ধ্রুব বলে এক ছান্র ছিল। রাশ্রে বিছনায় শুয়ে হঠাং ওই তনজনের কথা মনে পড়ল ধ্রুবকে বেলা খব্‌ স্নেহ করত তার কথা শমপর মনে পড়বে এটাই সঙ্গত কিন্তু বুলার হাত থেকে একথা বের হলো কধ করে? শমশর কথাগুদল ভাঁর মজার রকমের সুকুমারের কথাও খুব ষেন তারই মতো। মোহনলাল এগুলো 'লিখে নিয়েছে, কোনো এক সময় দেখতে পারো ।*

(কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এই ব্যাপারে অন্ধবি*বাসী নন গোড়ায় সম্পৃণ নিঃসংশয় 1তনি ছিলেন না। সে সময়ে কেউ কেউ মন্তব্য করেন, লেখাগুলো তাঁর নিজ্বেরই অবচেতন মনের প্রাতফলন রবীন্দ্রনাথ প্রথম প্রথম তা একেবারেই ডীঁড়য়েও

দেননি উমা দেবীর হাতে মৃত মশিলাল গাঙ্গলশর কথা বের হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি রানী মহলানবিশকে ওই একই সময়ে (৬ নবেদ্বর, ১৯২৯ ) আর একথানা চিঠিতে লেখেন £

“উত্তরগুলো শুনে মনে হয় যেন সে-ই কথা কইছে। কিদ্তু এসব 'বিষয়ে খুব পাকা প্রমাণ পাওয়া যায় না। তার প্রধান কারণ মন তো সম্পূর্ণ নির্বিকার নয়। তার যা ধারণা হয়, সে ধারণার হেতু সব সময় বাইরে থাকে না, তার নিজের প্রকৃতির মধ্যেই থাকে আম যখন বললম মনে হচ্ছে যেন মণিলাল কথা কচ্ছে, তখন সেই মনে হওয়াটা সম্পূর্ণই আমার আত্মগত হতে পারে। তবু ধারণা হয়েছিল একথা মানতে হয় মেট কথা আমাকে কতকটা ভাবিয়ে দয়েছিল।” |

এই ভাবনা পরবতণ" পধাঁয়ে আরও বেড়োঁছল এবং সম্ভবত ঝোঁকটা বেশি ছিল 'বি*বাসের দিকেই উমা দেবীর হাতের লেখার বৈজ্ঞানিক পরণক্ষার কথা যখন ও*ঠ, তখন তিনি তার চারাঁদন পর ( ১০।১১।২৯ রানঈ মহলানাবিশকে আর একথানা চিঠিতে লেখেন £

*.ং-প্রশান্ত তার চিঠিতে লিখেছে বুলার হাত দিয়ে যে লেখাগুলো বেরোয় বিশেষ করে তার পরীক্ষা আবশ্যক আমার নিজের মনে হয় এসব ব্যাপারে আত নিঃসংশয় প্রমাণ পাওয়া সম্ভব নয় আমার আপন সম্বন্ধে ষাকে ফ্যাক্স বলা যায়, তাই নিয়ে যাঁদ তুম পরাক্ষা করো, তবে প্রমাণ হবে আম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নই। যে গান নিজে রচনা করো, পরীক্ষা দিতে গেলেও তার কথাও মনে পড়বে না, তার সুরও নয়। একবার জিজ্ঞাসা করোছল চন্দননগরের বাগানে যখন ছিলাম তুখন আমার বয়স কত। আমাক বলতে হয়োছিল, আম জাঁননে বলা উচিত ছিল, প্রশান্ত জানে! আম যখন দাক্ষণ আমোরকায় শগয়োছলুম সে দু বছর হলো না তন বছর না চার বছর, গনঃসংশয়ে বলতে পাঁরনে শমীর মৃত্যু হয়োছিল কবে, মনে নেই। বেলার বিয়ে হয়েছিল কোন বছরে কে জানে অথচ টোলিফোনে আমার সঙ্গে কথা বলার সময়ে তুম যা নিয়ে আমার সম্বন্ধে নিঃসংশয় সেটা তোমার ধারণা মাত তুমি জোর করে বলছ ঠিক আমার স্বর, আমার ভাষা, আগার ভঙ্গী আর কেউ যাঁদ বলে না; তারপরে আর কথা নেই। কেননা তোমার মনে আমার ব্যান্তত্বের ষে একটা মোট ছাঁব আছে, অন্যের মনে তা না থাকতে পারে, কিদ্বা অন্য রকম থাকতে পারে। অথচ এই ব্যান্তত্বের সাক্ষ্াই সবচেয়ে সত্য সাক্ষ্য, কেননা, এটাকে কেউ বানাতে পারে না আমার জীবনের বিশেষ বিশেষ তথ্য আমার চেয়ে প্রশান্ত বোঁশি জানে, কিন্তু জানার চেষ্টা করলেও আমার মোট ছবিটা লে নিজের মধ্যে ফোটাতে পারবে না। আত্মার চরম সত্য তথ্যে নয়, আত্ম।র আত্মকীয়তায়

"ইতিমধ্যে পর্শং বুলার হাতে একটা লেখা বোরয়েছে তাতে নাম বেরোল না। বললে, নান পঞজরজ্ঞাপা কোরো না, তুমি মনে যাভাবছ আম তাই।

৯৬

তারপরে যেসব কথা বেরোল সে ভারি আশ্চর্য তার সত্যতা আম যেমন জান আর দ্বিতীয় কেউ না। কোন এক অবসরের সময় কাঁপ করে তোমাকে পাঠাবো 1৮

আত্মার আঁস্তত্বে রবীন্দ্রনাথের বি*বাস কত প্রবল ছল তার পাঁরচয় আছে নানা জনকে লেখা তাঁর চিঠিপত্রে। যৌবন বয্নসেই তান হঠাৎ হঠা দেহ এবং নিজের আত্মাকে আলাদাভাবে চিন্তা করতে পারতেন ১৮০ সালের ২৯শে আগস্ট বিলেতের পথে এডেন থেকে স্ত্রী মণাঁলনীশ দেবীকে এক চিঠিতে লেখেন-_

“রাববার দিন রাতে আমার ঠিক মনে হল, আমার আত্মাটা শরীর ছেড়ে বেরিয়ে জোড়াসাঁকোয় গেছে একটা বড় খাটে একধারে তৃমি শুয়ে রয়েছ আর তোমার পাশে বোল (মাধুরীলতা ) খোকা ( রথীন্দ্রনাথ) শুয়ে আম তোমাকে একটু আধটু আদর করলুম আর বললুম--ছোটবৌ মনে রেখো, আজ রাঁববার রাত্তিরে শরণর ছেড়ে বোরিয়ে তোমার সঙ্গে দেখা করে গেলুম- বিলেত থেকে ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করব তুমি আমায় দেখতে পেয়েছিলে কনা ।”

অখ।ং রবাদ্রনাথ অনায়াসে নিজেকে দ্বিখাণ্ডত করতে পারছেন প্রবল প্রতিভায় চিঠিটি পারহাসচছলে লেখা নয় এবং অনুমান করতে পারি, তিনি বলেত থেকে ফিরে এসে স্ত্রকে নিশ্চয়ই জিজ্ঞাসা করেছিলেন তাঁর অশরীরী উপাস্থাত সেই বশেষ রাঁববারের রাত্রে তান অনুভব করেছিলেন 1কনা। রবীন্দ্রনাথের বিশ্বাস এই ব্যাপারে কত দ্‌ঢ়মৃল ছিল, তার আরও অনেক প্রমাণ আছে।

এই 'বশ্বাসপ্রবণতা অস্বাভাঁবক কিছু নয় পাশ্চাত্ত্ের বহু বৈজ্ঞানিক বহু দা্শীনক বহু সাহাত্যিক প্রেতততব্বের অনুশীলনে মেতেছিলেন। স্যার অলিভার লজ, ইয়েটস, ইমানুয়েল কান্ট, কোনান ডয়েল, ব্রাউানিং, 1: ক-_কত নাম বলব। স্যার আরথার কোনান ডয়েল তো তাঁর হিসান্র অব 'স্পারিচুয়ালজম

শমক বইয়ে পাঁরৎ্কার ?লখেছেন--

ঢা. 00105 001 09]161 11 1116 2001 ৫69.) 2100 11) 1106 55019091006 ০1 105151015 ০1 009 80০01 217016186 0:20101010 01 00010. ৮803 110001- €10105, 00 80000 [0109৬610 05, 50 [08 & 90161006 01 1611200, 109$ ০০ 6০৮11 010 2110 1099 81৮6 9806 02017%/29 20010 005 0082706 01 1176 01960”.

[থয়সাফকেল সোসাইটির জারনালগুলো পড়লে (যা রবীন্দ্ুনাথ নিয়মিত পড়তেন ) কিংবা স্বামী অভেদানন্দের 'মরণে” পারে বইয়ের পাতা ওজ্টালে পারলৌকিক কথোপকথনের বহু কাঁহনী জানা যায় এই প্রসঙ্গে দু"খানা বই-_ ব্রাড স্টাইগারের 'ভয়েসেস ফ্রম বিয়ণ্ড' এবং সুসা স্মিথের প্র এক্সপোরয়েম্সেজ ইন কমউীনকোটিং উইথ দি ডেড' (মারাঁলন এবন সম্পাদিত)_-পড়লে বিস্ময়কর

একর্লে রবীচ্দ্রনাথ ৬৫

বহু ঘটনায় চমৎকৃত হতে হয় শোনা ধায়, প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন কোন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হলে মিডিয়ামের সাহায্যে পরলোকগত আত্মার সঙ্গে পরামর্শ করতেন

আর একটি বিষয় লক্ষণীয় ১৯২৯ সালে উমা দেবীর মাধ্যমে পারলোৌকিক কথোপকথনের আগে এবং পরে রবান্দ্রনাথের বি*বাসের মধ্যে তারতম্য ঘটে দশ বছর পর ১৯৩৯ সালে মংপুতে মৈলেয়ী দেবকে জোর গলায় তিনি মিডিয়াম প্রক্রিয়ার সমন করেছেন ১৯.৯ সালের আগে অন্য অনেকের সঙ্গে আলোচনায় তাঁর গলার সুর কিম্তু একটু অন্য রকম ছিল।

মৈত্রেয়ী দেবীর ব*বসভায় রবদন্দ্রনাথ বইয়ে পরলোক সম্বন্ধে সুন্দর একটি তথ্য আছে।

১১২০ সালের নিউ ইয়ক সাট কাগজে একাঁট খবর ছাপা হয় খবরের উপর প্রকাণ্ড শিরোনামা--স্যর আলভার লজ তাঁর শিষ্যদের প্রমাণ ভারতায় কর্তৃক বাতিল ।,-_-এতে কাবা বরস্ত হন। আলভার লজের মতামত এবং পস্যন- চেটের সাহায্যে পরলোকগতের সঙ্গে আলাপ লন্বন্ধে কবির সঙ্গে আলোচনা করতে যে আমেরিকানটি গিয়ে ছিলেন, অনুমান করা যায্ন যে, তিনি ভেবোছলেন আধ্যাত্মিক তত্বে বিশ্বাসী ভারতীয় কবির কাছে নিশ্চয়ই পারলোিক বিষয়ে অনুকল তথ্য পাওয়াই যাবে। কিন্তু ফল বিপরীত হল তান লিখলেন__ “রবীন্বুনাথের কণ্ঠে কিন্তু পৃবদেশ পাশ্চমের প্রীতি মাডয়ামের সাহায্যে টোবিলচলা প্রভৃতি ভৌতিক পরীক্ষার বীবষয়ে এক বন্দুও সহানুভৃতির বাণী পাঠায়ান। আমাদের উত্তেজিত আলোচনার মধ্যে ভারতের মহাকাঁব বললেন-_ “মৃত্যুর পরের আঁস্তত্ব সম্বন্ধে মাথা ঘামিয়ে লাভ কিছুই নেই জাবনের ধারার্বাহকতা সম্বন্ধে আমাদের মধ্যে একটা স্বাভাবিক বোধ আছে। কিন্তু ম্‌ত্যুর পরে যে সে কী আকার নেবে সে সম্বধে কোনই ধারণা নেই। যেমন শডমের ভিতরে বন্দী পাখীর ছানা জানে না তার খোলসের প্রাচীরের বাইরের জীবন কী রকম।"*"এ জীবন পরবতর্ট অবস্থার মধ্যে এক মস্ত যবাঁনকার আড়াল তার নিশ্চয় কোন বিশেষ অথথ আছে যেমন ডিমের খোলার ভিতর শাবককে রাখার মানে আছে যাদ সম্পূর্ণ তৈরি হবার আগেই খোলস ভেঙে বোরিয়ে আসা, বাহর্জগতের সঙ্গে পারচয় নেওয়া শাবকের পক্ষে স্বাদ্থ্যকর হত, তাহলে নিশ্চয় জানবেন তার কোন ব্যবস্থাও থাকত িম্তু সময় না হলে খোলস যে ভাঙা হয়না পক্ষী-শাবকের জণবনের মধ্যে িদ্বকালের পক্ষে সেটাই হিতকর

“মৃত্যুর পরের অবস্থা সম্বন্ধে একটা সঠিক স্থির ধারণা করে নেওয়া চলে না। সেটা করতে চেষ্টাকরাই 1781211811500 সে শুধু অসাীমকে সামা দেবার চেক্টা করা। লোকে এমনভাবে কথ বলে যেন তারা পরকালের বিষয় সমস্ত খবরই রাখে আত্মা ঈশ্বরের সম্বন্ধেও বিস্তারিত স্বই জানা এতে শনধু

৯৮

সেই অসীম চিরপ্র“নগীলকে সীমা দিয়ে কলাঁঙকত করা হয়। আমার একেবারেই ভালো লাগে না।

“আত্মা পাঁথর মত আকাশচারী হতে চায়। এই সব অনুসন্ধান তক“ ভবিষাৎ নিয়ে নানা কম্পনা তার সেই মুক্ত পক্ষের শুধু বাধা সৃষ্টি বরে। এর বারা আমরা স্থান কালের ধারণার সঙ্গে বাঁধা পড়ে থাকি তাতে অনন্ত বা অপীমের বোধ জন্মাতে বাধা হয়। আমাদের সাধনা হোক কালজয়ী হবার, পাওয়া চাই সেই আনন্দ যা পরামান'দ যে আনন্দবোধ আমাদের অতাঁত বা ভবিষ্যতের কোন খবর দেয় না, শুধু অনন্তের সংবাদ দেয়_-যা অসীম শা*বত িরবর্তমান।”

আগন্তুক একজন আমোরকান কাঁবর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে বলেন, “তা সত্বেও আমরা পাশ্চাত্য দেশে জন্মান্তরবাদের তত্বে মোহিত হয়েছি এবং আমাদের চিন্তায় সাহত্যে তার পুভাব বেড়ে চলেছে”

রবীন্দ্রনাথ “হবে আমার কোন মতবাদ নেই আম কোন বাদ-এ [ববাস কার না।»

শাগন্তুক আর একজন বললেন, “পকন্তু আপনার চেয়ে সুন্দর করে জম্মান্তরের গান তো কেউ গ্ায্সানি!” বলেই তিনি মৃদুস্বরে আবান্ত (ইংরেজী অনুবাদে) করলেন--তোমারেই যেন ভালবাসিয়াছি শতরপে শতবার, জনমে জনমে যূগে যুগে আনিবার

রবীন্দ্রনাথ তখন উত্তর দিলেন--অসম্ভব নয় যে আমরা বারে বারে 'জন্মাই। বিন্তু সে কেবল আন্দাজী কথা। অনন্ত আমাদের বালকোচিত খুশটনাঁট কৌতূহল মেটায় না।»

এই জন্মান্তর পরলোক প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দীঘ“ আলোচনা হয় স্টপফোড ব্যকসের সঙ্গেও। তিনি “পথের সয়” গ্রন্থে 'বজেই লিখেছেন-_-

“কথায় কথায় তান (বুকস ) এক সময়ে আমাকে 1জজ্ঞাসা করিলেন, আম জন্মান্তরে বিশ্বাস কার কিনা আম বাঁললাম-_-তামাদের বর্তমান জন্মের বাহরের অবস্থা সম্বন্ধে কোন স্বানার্দন্ট কল্পনা আমার মনে নাই এবং সে সম্বন্ধে আম চিন্তা করা আবশ্যক মনে করি না। 'কম্তু খন "চিন্তা কাঁরয়া দেখি, তখন মনে হয়, কখনই হইতেই পারে না যে, আমার জাবনধারার মাঝখানে এই মানবজন্মটা একেবারেই খাপ্ছাড়া জিনিস। ইহার আগেও এমন কখনও ছিল না, ইহার পরেও এমন কখনও হইবে না, যে বিশেষ কারণবশতঃ জীবনটা [বশেষ দেহ হইয়া প্রকাশ পাইয়াছে, সে কারণটা এই জন্মের মধ্যেই প্রথম আরম্ভ হইয়া এই জন্মের মধ্যেই সম্পণ" শেষ হইয়া" গেল শরীর জন্ম পুনঃ পুনঃ প্রকাশিত হইতে হইতে আপনাকে পূর্ণতর করিয়া তুলিতেছে এইটাই সম্ভবপর বাঁলয়া বোধ হয়। কন্তু প্‌ব্জম্মে কোন কোন মানুষ পশু ছিল এবং পরজন্মেই সে পশহদেহ ধরবে একথা আমি মনে করিতে পারি না। কেননা

৯৯

প্রকাতর মধ্যে একটা অভ্যাসের ধারা দেখা য'য়। সেই ধারায় হঠাৎ অত্যন্ত বিচ্ছেদ ঘটা অসঙ্গত।

ব্র.কস বাঁললেন, তিনিও জন্মাণ্তরের 'বি*বাসটাকে সঙ্গত মনে করেন তাঁর গব*বাস নানা জন্মের মধ্য 'দিয়া আমরা যখন একটা জীবনচক্র সমাঞ্ধ করব, তখন আমাদের পুব জন্মের সমস্ত স্মাঁত সম্পূর্ণ হইয়া জাগ্রত হইবে |”

ব্ুকসের সঙ্গে তাঁর আলোচনার উল্লেখ আছে শান্তানকেতন গ্রন্থে অগ্রসর হওয়ার আহহান" প্রবন্ধে প্রবন্ধে বলেছেন, “য়ুরোপের লোকেরা ধর্ম বিশ্বাসের একটা প্রত্যক্ষগম প্রমাণের অনুসন্ধান করছে- যেমন ভ্‌তের বিশ্বাস, টেলিপ্যযাথ প্রভাত কতগুলো অতগীন্দ্রয় রাজ্যের ব্যাপার 1নয়ে তারা উন্মত্ত হয়ে উঠেছে ।”

ব্রুক:সর সঙ্গে আলোচনার প্রায় ১৮ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ছিন্নপন্রের একটি চিঠিতে লেখেন-__

“জখগবনের সমস্ত স:খদুঃখকে যখন বাচ্ছন্ন ক্ষাণিকভাবে দোঁথ, তখন আমাদের (িতরকার অনন্ত সৃজনরহস্য ঠিক বুঝতে পারবে প্রত্যেক পদটা বানান করে পড়তে গেলে যেমন সমস্ত বাক্যটর অথ“ এবং ভাবের এঁক্য বোঝা যায় না, সেই রকম। কিন্তু নিজের ভিতরকার এই সৃজন ব্যাপারের এঁক্যসূত্র যখন একবার অনুভব করা যায়, তখন সজ্যমান অনন্ত বশবচরাচরের সঙ্গে নজের যোগ উপলাব্ধ কার ।”,

পরলোকতত্বে বি*বাস+ বৈজ্ঞানক স্যার অখীলভার লঙজের সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ হয়েছিল মৃত আত্মার সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান, প্ল্যানচেট ইত্যাদিতে তাঁর 'বন্বাস লজ নানা প্রমাণ সহযোগে লিখোছিলেন ১৯২৮ সালের স্ট্যাফোডশায়ার সেন্টিনেল' কাগজে উভয়ের সংক্ষাতের উল্লেখ আছে

কুজীবন জন্মান্তর সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের ওই সব আলোচনা মারগারি রেক্স নামক মাহলার সঙ্গে আলোচনায় 'কণিং পার্থক্য আছে মল তত্বে বন্বাসী থেকেও রবীন্দ্রনাথ পরজাীবন সম্পকে তাঁকে আরও একটু বোগ কৌতূহল দোৌখয়েছেন ব*বসভায় রবদন্দুনাথ” বইয়ের আর এক জায়গায় লেখা আছে :

১৯২০ সালে “ওয়াশিংটন নামক কাগজে এাডশনের মোশন বলে একি যন্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে যন্ত্র মৃত্যুর পরে সত্তার আঁস্তত্ব নিধরিণ করতে সক্ষম হবে, এই ছিল প্রাতিপাদ্য মারগার রেক্স নামে এক মাহলা কবির সঙ্গে হোটেলে দেখা করতে এসে প্রশ্ন করেন- মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব থাকবে দিনা এবং এডিশনের মেশিন সম্বম্ধেই বা তাঁর মত কণ।

কাব বললেন, “পরজীবন সম্বন্ধে আমরা শুধু এইটুকুই মনে করতে পার

না। জশবনের পৃথবীতে এল,

আছে, বিরোধ নেই যে নতন ছিল, তাকে গ্রহণ করবার জন্য

৮৬৬,

তাদের উভয়ের মধ্যে যেমন সামঞ্জস্য আছে, তেমনি ষে-জীবন শেষ হবার মুখে, সেও ষে নতন আভল্ঞতায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে আশা করা যায় সেখানেও [বরোধ থাকবে না, সামঞ্জস্যই থাকবে 2 আর এাঁডিশনের যন্ত্র সম্বন্ধে আপনারা আমার মত জানতে চান। এই ঘন্তর দিয়ে তিনি বোঝাবার চেষ্টা করেছেন যে, ব্যন্কিসত্তার মৃত্যুর পরও আস্তিত্ব থাকে কি না। কিন্তু আমরা এই লোক থেকে কখনই স্থির করতে পারবে না যে, মৃত কোন আবনাশণ সন্তার আমাদের তোর কোন যন্তে সাড়া দেবার উপায় বা ইচ্ছা থাকবে 'ক না। মৃত্যুর পরবতণ" জশবনে আমার আশা বি*বাসের শেষ নেই তবে মানুষের কাছে তার প্রমাণের জন্য আম কোন যন্বের প্রয়োজন দেখি না। ধরা যাক, মেশিন সেই সত্তার কাছে কোন খবর পেশছাতে পারল না, তা হলেই তার আঁস্তত্ব অপ্রমাণ হয়ে যাবে না»

স্বদেশেও রবীন্দ্রনাথ নানা জনের সঙ্গে জন্মান্তর পরলোকতত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপ্ণ দিলবপকুমার রায়ের সঙ্গে কথাবাতাঁ। ১৯২৬ সালে। সেই আলোচনার ভীত্ততেই “আলাপ আলোচনা” নাম দিযে ১৩৩৪ সালের অগ্রহনয়ণ মাসে প্রবাসীতে রবসন্দ্রনাথের একটি প্রবন্ধ বের হম তাতে পরলোক সম্পকে রবী'ব্ুনাথের মনোভাবের ধবস্তারিত ব্যাখ্যা আছে তিনি এক জায়গায় বলেছেন__

“যেটাকে আমরা জগৎ বাল, যার সঙ্গে আমার ব্যবহার, সেটাকে আমরা বিশেষ বোধশাস্তর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে আন্দাজ করবার চেম্টা করলে কিছুই আন্দাজ করা যয় না। সবাই জানে আমার দেখ্ব'র দৌড়, আমার শোনবার দৌড় সাঁমাবদ্ধ আলোকরশ্ম বা বায়তরঙ্গের বেবল আতি ক্ষুদ্র একটা অংশ [নয়ে আমাদের কারবার তাছাড়া আমার মন নামক যন্প্ুটা কেবল বিশেষ একটা সীমার মধ্যে বশেষ এক রকম জানতে পারে আমরা যে-জাঁনসটাকে যা বলে বোধ করছি, আমাদের সীমাবদ্ধ বিশেষ প্রকাতির বোধশান্ত 9."ণই সেই জানসটা আমার কাছে বিশেষভাবে তাই। আলোকরশিমর মস্তকটাকে মামার চোখ যাঁদ এতট.কুমান্র ছাড়য়ে যায়, তাহলে যেটাকে যা দেখছি, সেটা একেবারে আরেক রকম হয়ে যাবে আমাদের জ?গৎটাকে শাস্তে ব্রদ্মাড বলে এই সংসার্টা যদ ডিম হয় তবে এর খোলটা কী 'দয়ে তোর? আমাদের সীমাবদ্ধ বোধ 'দয়ে আমার বোধগমা জ্ঞানগম্য এই 'বপুল জগংটা আমার এই সীমাবদ্ধ বিশেষ মনঃপ্রকীতর মধ্যেই অবরুদ্ধ সেই অবরোধের মধ্যে আমার যা সুখদুঃখ. যা চাওয়া-পাওয়া তাকে সকল অবস্থাতেই বলে মনে করতে পারিনে ।”

দিলনপকুমার রায় রবীন্দ্ুনাথের বন্তব্য শুনে বলেন, “এক কথায় আপান আত্মার অমরতায় বি*বাস করেন না।”

রবীন্দ্রনাথ তৎক্ষণাৎ জবাব দিলেন, “এটাও তুমি বোঁশ বললে ডিমের মধ্যে শাবক থাকে িমের বাইরে যা আছে, তাসে একেবারেই জানে না। ডিমের ভিতর যেটুকু, তা” তার খাদ্যে ভরা তার মধ্যে দিন নেই, রাম নেই।

মনে করা ঘাক, শাবকঁটি চিন্তাশীল এবং পরজন্মের কথা চিন্তা করে। আপন [ডিমের ভিতরকার অবস্থাকেই চিরণ্তন না মনে করলে অমরতা সম্বন্ধে যাঁদ এই জীবটির রূচ না থাকে তাহলে আমরা ঈবদহাস্য সহকারে বলতে পাঁর--বাপ7, বেরিয়ে এসো ; তারপরে কোনটা তোমার পছন্দ, কোনটা অপছন্দ তা নিয়ে আলোচনা করো আমাদের মতজশীবনের ডিমের মধ্যে যা দেখছি বা পাচ্ছ, সেইটেই যে অসীম কালের জন্য আমাদের শ্রেয় বা প্রেয়, মৃত্যুর পরে আমাদের লস রইস' মোটরকারের প্রেতাত্মকেও সঙ্গে না পেলে আমাদের যে ক্ষাত বা অস্যাবধা আছে, এটা সেই চিন্তাশীল শাবকের মতোই কথা হলো ।”

দিলীপ রায়ের অতঃপর প্র*্ন_-“আমাদের ইচ্ছা 'জানসকে অন্গীমতা দিতে চায়। এইটেই কি আমাদের কাছে আমাদের অমরতার প্রধান, এমন কি একমান্ত প্রমাণ নয় ?

রবান্দ্রনাথ তখন বললেন, “আমরা ইচ্ছা কার বানা কার, সেটা সম্বন্ধে প্রমাণ নয় প্রমাণটা আছে আমাদের জন্মগত সংস্কারের মধ্যে তাকে অন্ধ সংস্কার বলতে পারো-কারণ সেটা যে কেবল য্যাস্তর অনুকুল তানা, সেটা য্যান্তর প্রাতকুলে। ডিমের ভিতরকার জগংটাই যে চরম জগৎ নয়, এটা শাবকের পক্ষে [নিতান্তই অযৌন্তক। আধ্ীনক কালের বৈজ্ঞানিক শাবক কথাটাকে এমনিভাবে হেসে ডীঁড়য়ে দিতে পারে।”

রবীন্দ্রনাথ দিলীপকুমার রায়ের মধ্যে এই আলোচনা দীর্ঘ। পরলোক সম্পকে রবান্্রনাথের মনোভাব বোঝার জন্যে তার বন্তব্যের আরও কছ: কিছু অংশ আলাদা তুলে দিলাম-_

_“দেহ থেকে মনৃক্তি হলেই যে আত্মার মযান্ত হয়,একথা আম বলতে পাঁরনে।”

--“আামাদের শাস্তে বলে মান্তর অবস্থায় এসে না পেশছন পর্যন্ত আত্মা দেহ থেকে দেহান্তরে জন্ম নিতে থাকে ।”

“মানত অনির্বচনয়, মুস্তি প্রমাণের অতগত, কেননা সেই চরম সত্য ।”

-_ “মত্যুর পরবতর্ঁকালে আমাদের এখনকার সব ইচ্ছা যে ইচ্ছারুপেই থাকবে, একথা মনে করতে পাঁরনে ।”

নানা জনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আলোচনা গ্্য।নচেট বা মিডিয়াম সম্পকে" তার বি“বাসের পাশাপাশি রাখলে রবঈন্দ্রনাথকে বুঝতে সহজ হবে। নয়ত এমন কথা মনে হতে পারে যে তান যেন প্রেততত্বে বিশ্বাসী প:থিবী-বিমখ একজন অধ্যাত্মবাদী। সে ধারণা ভূল মিডিয়ামের সাহায্যে যে সব আত্মার সঙ্গে তিনি কথাবার্তা বলেছেন, তাতে তিনি ব্যন্তিগত জিজ্ঞাসার চেয়ে অসীম অনম্তে পারব্যাপ্ত পরজীবনের রহস্য জানবার আগ্রহই বোশ প্রকাশ করেছেন ইহজাবন পরজীবন সম্পকণ্ঠাত নয়, মৃত্যুর পরেও নূতন জগৎ আছে এবং কোন মৃতু)/তেই ইহসংসারের ক্ষাতবূদ্ধি হয় না- এই বোধ তার সদা-জাগ্রত ছিল শান্তিনিকেতন গ্রম্থে এক জায়গায় তান লিখেছেন--

“বস্তুত সংসার তো মিথ্যা নয়, জোর করে তাকে মিথ্যা বলে লাভ কণ ? যান গেলেন, তান গেলেন বটে, কিন্তু সংসারে তো ক্ষাতির কোন লক্ষণ দেখিনে। স্ালোকে তো কোন কালিমা পড়েন, অফূরান সংসারের ধারা আজও পূর্ণ বেগে চলেছে ।”

এই কথারই প্রাতধবাঁন পাই “চিঠিপত্র ৪থ* খণ্ডের একি চিঠিতে দৌহন্র নীতিদ্দ্রনাথের মৃত্যুর পর কন্যা মীরা দেবীকে সান্ত্বনা দেবার সময় নিজ পান্তর শমীন্দ্রনাথের মৃত্যুর সময় তাঁর শোককে তান কীভাবে সংহত করলেন, তার বর্ণনা দিয়েছেন চমৎকারভাবে জ্যোৎস্নালোকিত আকাশের মাধুরণ চারদিকে ঠিক একইভাবে ঝরতে দেখে তিনি উপলাব্ধ করলেন শমান্দ্রনাথের মৃত্যুর চাকা আকাশের নাল নর্মলতায় ক্ষাতর একটি রেখাও কাটতে পারোঁন, বিশ্ব সংসারে কোথাও কিছ কম পড়েনি

প্রসঙ্গত স্মত'ব্য, শাঁম্তনিকেতনের প্রান্তন ছান্র হিতেন্দ্রনাথ নন্দকে লেখা আর একখানা চিঠি (বি"বভারতশ পাত্রকা মাঘ-চৈত ১৩৫৯ )। তিনি বলছেন, “মৃত্যু দুঃথ পাপ প্রভাতি কতকগুলি 'জানস আছে যার সম্বন্ধে প্রশ্নের অন্ত নেই- তার শেষ জবাব দিতে পাঁর এমন শান্ত আমাদের কারো দেঁখনে মোটের উপর কেবল এই কথায় বলা যায় যে, মৃত্যু বখন বিশ্বব্যাপী তখন ওকে জীবনের অঙ্গ বলেই স্বীকার করে নিতে হবে যাঁদ জীবনের বিরুদ্ধ হতো, তাহলে এতাঁদনে জগৎটা শূন্য হয়ে ষেতো অতএব যারা চলে গেল, জীবনের প্রবাহে তারা যে বাধা পেল একথা মনে করবার দরকার নেই নদীর মতো সে এক বাঁক থেকে আর-এক বাঁকে গেল, কিম্তু তার প্রবাহ আবচ্ছিন্ন রইল তা যদ নাহয়, তবে জীবনের এত প্রচুর অপব্যয় জগতের তহবিলে সইবে কন করে ? আর যাই হোক না কেন, বিশ্বব্যবস্থা তো উন্মন্ডের প্রলাপ নয়। এর মধ্যে প্রীত ধুলকণা সম্বন্ধে পাকা হিসাব দেখা যায়-__কেবল প্রাণ সম্বন্ধেই সমস্ত উচ্ছৃঙ্খল ? কিন্তু তাই বলে যাঁদ প্র*ন কেউ করে, তাহ ষে প্রাণ আমাদের গোচর থেকে সরে যায় তার হয় কী, তবে সাফ জবাব দেওয়া উাচত ষে, জাননে। যারা বলে, জাঁন এবং পরলোকের ভৃবূত্ত। ম্যাপে এ*কে দেখিয়ে দেবার চেষ্টা করে তাদের কথা আমি একবর্ণও বিশ্বাস কারনে অপেক্ষা করে থাকা ভাল, যখন জানবার সময় আসবে,